জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৭ মার্চ ২০১৭

বাষির্ক প্রতিবেদন ২০১২-২০১৩

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০১২-২০১৩অর্থ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়নের জন্য জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের তথ্যাদি  

 জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি 

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের অনগ্রসর, বঞ্চিত, দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও সমস্যাগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, দেশের প্রচলিত আইন, দারিদ্র হ্রাসকরণ কৌশলপত্র, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ, রুপকল্প ২০২১, জাতিসংঘ ঘোষিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অধিকার সনদসহ বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সকল কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

 

এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে The Societies Registration Act, 1860 এর আওতায় ১৬-১১-১৯৯৯ এক প্রজ্ঞাপনমূলে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন নিবন্ধিত হয় এবং এর সংঘস্মারক ও গঠনতন্ত্র প্রণীত হয়।          

 

ফাউণ্ডেশনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সংক্ষেপে নিম্নরূপ

 

(1)          বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী নাগরিকগণের সমমর্যাদা, অধিকার, পূর্ণ অংশগ্রহণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ।

(2)          প্রতিবন্ধিত্বের কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণা/প্রকাশনা ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ। এই  লক্ষ্যে জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও উৎসবসমূহ উদযাপন করা।

(3)         প্রতিবন্ধীদের জন্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকরণ এবং সহযোগিতা প্রদান।

(4)          প্রতিবন্ধীদের চিহ্নিত ও সনাক্তকরণপূর্বক বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

(5)         প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কর্মরত প্রতিষ্ঠান/সমিতি/সংগঠন/সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বিত   সাধন ইত্যাদি।

 

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন কর্তৃক গৃহিত কার্যক্রম নিম্নে উল্লেখ করা হলো

 

 

প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্য কেন্দ্র শীর্ষক কর্মসূচি

 

দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে দেশের পাঁচটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু করা হয়। এসব কেন্দ্রের সাফল্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ২০১১-১২ অর্থ বছর পর্যন্ত দেশের ৩৫টি স্থানে ৩৫টি কেন্দ্র চালু করা হয়। চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরের ৩৩টি কেন্দ্রসহ এ যাবৎ দেশের ৬৪টি জেলার ৬৮টি স্থানে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

 

২০০৯-১০ অর্থ বছরে এ কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে এ যাবৎ মোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে এসব কেন্দ্র থেকে থেরাপিউটিক, কাউন্সেলিং ও রেফারেল সেবা প্রদান করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন ধরণের সহায়ক উপকরণ যেমন- কৃত্রিম অংগ, হুইল চেয়ার, ট্রাই সাইকেল, ক্র্যাচ, স্ট্যান্ডিং ফ্রেম, ওয়াকিং ফ্রেম, সাদাছড়ি, এলবো ক্র্যাচ, হিয়ারিং এইড ইত্যাদি দেয়া  হচ্ছে। এছাড়া এ কর্মসূচির আওতায় আয়বর্ধক উপকরণ হিসেবে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়ে থাকে।

 

 অটিজমের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি কেন্দ্রে ইতোমধ্যে একটি করে অটিজম কর্ণার চালু করা হয়েছে।

 

অটিজম রিসোর্স সেন্টার

 

২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদ্‌যাপনের শুভলগ্নে মাননীয় প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে ফাউণ্ডেশনের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু হয় অটিজম রিসোর্স সেন্টারের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২-৪-২০১০ আনুষ্ঠানিকভাবে উক্ত সেন্টারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অটিজমের শিকার শিশু/ ব্যক্তিবর্গকে উক্ত সেন্টার থেকে বিনামূল্যে নিয়মিত থেরাপি, রেফারেল ও কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১০ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ  যাবৎ ৫০০ জন অটিজমের শিকার শিশু/ব্যক্তিকে বিনামূল্যে ম্যানুয়াল ও Instrumental থেরাপি সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে, যা অব্যাহত আছে। এছাড়া এ সেন্টারের আওতায় রেজিষ্ট্রিকৃত অটিস্টিক শিশুদেরকে নিয়মিত Home Based InterventionI প্রদান করা হচ্ছে।

 

 অটিস্টিক স্কুল

 

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে ২০১১ সালে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক অটিস্টিক স্কুল চালু করা হয়েছে। ৩০টি দরিদ্র পরিবারের ৩০ জন অটিস্টিক শিশুকে এ স্কুলের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। অটিস্টিক স্কুলের আওতায় পরিচালনাধীন বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অধ্যয়নরত অটিস্টিক শিক্ষার্থীবৃন্দ বিভিন্ন থেরাপি গ্রহণ করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

 

 

 ‘Promotion of Services and Opportunities to the Disabled Persons in Bangladesh’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প

 

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘Promotion of Services and Opportunities to the Disabled Persons in Bangladesh’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২৪/১১/২০০৮ অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে অনুমোদিত হয় যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১৫৪৮০.৪৯ লক্ষ  টাকা। এর সম্পূর্ণ অংশ প্রকল্প সাহায্য।পরবর্তীতে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে আলোচনা মোতাবেক প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করা হয়েছে।সংশোধিত ডিপিপি ১/১২/২০১১ একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়।সংশোধিত ডিপিপি মোতাবেক প্রকল্পের    বাস্তবায়ন কাল ঃ জুলাই ২০০৮  থেকে  জুন ২০১৪। উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দেশের ২০টি জেলায় ২০টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের বছরওয়ারি ব্যয়ের বিবরণী নিম্নে দেয়া হলোঃ

 

অর্থবছর

বরাদ্দ

প্রকৃতব্যয়

মন্তব্য

২০০৯-১০

৪,০০,০০০.০০

৪,০০,০০০.০০

 

২০১০-১১

৩,০০,০০০.০০

৩,০০,০০০.০০

 

২০১১-১২

৭,১০,০০,০০০.০০

১,৫১,৬৯,০০০.০০

 

২০১২-১৩

২৫,০০,০০,০০০.০০

৬,৫১,৩৯,০০,০০০.০০

(মার্চ পর্যন্ত)

চলতি অর্থ বছরে ৩.৫০ কোটি টাকার থেরাপি সামগ্রি, ৩০ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র, ১২ লক্ষ টাকার সেবা সামগ্রি ক্রয়ের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ কোটি টাকার মোবাইল রিহেবিলিটেশন বাস, ২ কোটি টাকার সহায়ক উপকরণ, ৭০ লক্ষ টাকার সেবা সামগ্রি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

 

 ভ্রাম্যমাণ ওয়ান স্টপ থেরাপি সার্ভিস

 

প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, হিয়ারিং টেস্ট, ভিজুয়্যাল টেস্ট, কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ, সহায়ক উপকরণ ইত্যাদি সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ভ্রাম্যমাণ ওয়ান স্টপ থেরাপি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। বিগত ২ এপ্রিল ২০১০ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উক্ত সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। চলতি   ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ফাউণ্ডেশনের আওতায় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সমন্বিত আরো ১০টি ভ্রাম্যমান থেরাপি ভ্যান সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার আইন

 

জাতিসংঘ ঘোষিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অধিকার সনদ (ইউএনসিআরপিডি) এর প্রতি সমর্থন প্রদানকারী প্রথম সারির দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইউএনসিআরপিডি’র সাথে সঙ্গতি রেখে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার আইন’ শিরোনামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনের খসড়া ইতোমধ্যে সরকারের মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে। 

 

প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০০৯

 

অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থার পথ সুগম করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা’ প্রণয়ন করে। উক্ত নীতিমালার আওতায় সুইড বাংলাদেশ এর ৪৮ টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউণ্ডেশন এর ৭টি ইনক্লুসিভ স্কুল এর যথাক্রমে ৪৬৩ ও ৭৫ মোট ৫৩৮ জন শিক্ষক/কর্মচারীর ১০০% বেতন-ভাতা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ মাস থেকে সরকারিভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। এ বাবদ প্রতিবছর রাজস্ব বাজেটের আওতায় বরাদ্দের পরিমান প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা, ২০০৯ জারী হওয়ার পর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও ইনক্লুসিভ  স্কুলসমূহের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দের মধ্যে উদ্যোগ ও প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে এবং এর মাধ্যমে সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলসমূহের ৭৬৯৮ জন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউণ্ডেশনের ১৩০০ জন অটিস্টিক ও বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছে।

 

 

অটিজম বিষয়ক প্রশিক্ষণ 

 

অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে ২০০৯ সন হতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি তাদের পিতামাতা ও অভিভাবককেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ যাবৎ অনুষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসমূহ হচ্ছে-‘ট্রেনিং ফর দ্য মাদার্স অভ মেন্টালি চ্যালেঞ্জড চিলড্রেন’, ‘অটিজম সচেতনতা বিষয়ক অভিভাবক প্রশিক্ষণ কোর্স’ Behaviour Modification and Picture Exchange Communication System (PECS), Autism and Development Disorder Management ইত্যাদি। এসব প্রশিক্ষণ নিয়মিত বিরতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এ যাবৎ অটিস্টিক শিশুসহ ৫০০ বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের পিতা-মাতা/অভিভাবককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

 

প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স

 

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে ঢাকার মিরপুরে একটি প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণের ডিপিপি প্রায় চুড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপিপি’র উপর প্রি-একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকের আলোকে বর্তমানে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণের ডিপিপিতে অটিস্টিকসহ অন্যান্য বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ডরমিটরি, অডিটরিয়াম, ওপিডি, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শেল্টারহোম, ডে-কেয়ার সেন্টার, বিশেষ স্কুল ইত্যাদির সংস্থান রাখা হয়েছে।

প্রকল্প ব্যয়ঃ ৮৫৮৭.৩৫ লক্ষ টাকা।

 

প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স

 

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার সাভার থানাধীন বারইগ্রাম ও দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর মৌজার ১২.০১ একর খাস জমি প্রতীকী মূল্যে ২০১২ সনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের নামে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত প্রদান করেছেন। উক্ত বন্দোবস্তকৃত জমিতে প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক নক্সা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স এর নক্সায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র, ফুটবল ও ক্রিকেট ফিল্ড, বিনোদন জোন, সুইমিং পুল, মাল্টিপারপাস জিমনেসিয়াম, মসজিদ, আবাসিক কোয়ার্টার, গেস্ট হাউজ, হোস্টেল ইত্যাদি কম্পোনেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

প্রকাশনা কার্যক্রম

 

অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে জানুয়ারি ২০১৩ মাস থেকে ‘আমরা করবো জয়’ শিরোনামে একটি মাসিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। পত্রিকাটিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আঁকা ছবিসহ তাদের সম্পর্কে সমাজের গুনীজনদের লেখা গল্প, ছড়া, কবিতা নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। মাসিক এ পত্রিকাটি ইতোমধ্যে পাঠক ও সুধী সমাজের প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

 

 প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদফতর গঠন

 

 জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের প্রথম পৃষ্ঠপোষকমণ্ডলীর সভায় ফাউণ্ডেশনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফাউণ্ডেশনকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি অধিদফতরে রূপান্তর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গত ০২ এপ্রিল ২০১৩ তারিখ ষষ্ঠ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানমালায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবন্ধী অধিদপ্তরে রুপান্তর করার সদয় ঘোষণা প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য, অর্থ বিভাগের স্মারক নং-০৭.১৫৪.০১৫.৪১.০২.০০১.২০১০-২৩১ তারিখঃ ১১.০৭.২০১৩ মূলে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন-এর অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনপূর্বক প্রতিষ্ঠানটিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অধিদপ্তরে রুপান্তর করার সম্মতি প্রদান করেছে।


Share with :
Facebook Facebook