জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২০ জুন ২০১৭

বাষির্ক প্রতিবেদন ২০১৩-২০১৪

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন

 

ভূমিকাঃ

 

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ব্যক্তি। ১৯৯৭ সনের ৩রা ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিতীয় দক্ষিণ এশিয়া সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ ও উন্নয়নে তহবিল গঠনের পরামর্শ প্রদান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ ও উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নের নিমিত্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের Vetting গ্রহণপূর্বক সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং-সকম/প্রতিবন্ধী/৪৮/৯৮-৪৩৩, তারিখঃ ১৬-১১-১৯৯৯ মূলে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন গঠিত হয়। ১৬-২-২০০০ তারিখ প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট এর মাধ্যমে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের সংঘস্মারক ও গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হয়।

 

ফাউণ্ডেশনের সংক্ষিপ্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

 

  1. বাংলাদেশের সকল ধরণের প্রতিবন্ধী নাগরিকগণের সমমর্যাদা, অধিকার, পূর্ণ অংশগ্রহণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ।
  2. প্রতিবন্ধিত্বের কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণা/প্রকাশনা ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ। এ লক্ষ্যে জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও উৎসবসমূহ উদযাপন করা।
  3. প্রতিবন্ধীদের জন্য গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকরণ এবং সহযোগিতা প্রদান।
  4. প্রতিবন্ধীদের চিহ্নিত ও সনাক্তকরণপূর্বক বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
  5. প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কর্মরত প্রতিষ্ঠান/সমিতি/সংগঠন/সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় সাধন ইত্যাদি।

 

বিগত ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফাউণ্ডেশনকে পুনর্গঠন করে। সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে তখন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২৬ মে ২০০৯ এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া রদ করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এখন প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন গণমূখী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। কার্যক্রমগুলো ছোট্ট পরিসরে নীচে বিধৃত করা হলঃ

 

˜    প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র শীর্ষক কর্মসূচিঃ

 

২০০৯-২০১০ থেকে ২০১৩-২০১৪ সময়কালে সারাদেশে সর্বমোট ৭৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিবন্ধী হাসপাতাল নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এসব কেন্দ্রে ফিজিওথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপি, ক্লিনিক্যাল অকুপেশনাল থেরাপি, ক্লিনিক্যাল স্পিচ এ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি এর মাধ্যমে অটিজমের শিকার শিশু/ব্যক্তি এবং অন্যান্য ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে নিয়মিত থেরাপি সেবা, হিয়ারিং টেস্ট, ভিজুয়্যাল টেস্ট, কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ সেবা এবং বিনামূল্যে সহায়ক উপকরণ হিসেবে কৃত্রিম অংগ, হুইল চেয়ার, ট্রাইসাইকেল, ক্র্যাচ, স্ট্যান্ডিং ফ্রেম, ওয়াকিং ফ্রেম, সাদাছড়ি, এলবো ক্র্যাচ ইত্যাদি এবং আয়বর্ধক উপকরণ হিসেবে সেলাই মেশিন প্রদান করা হচ্ছে। এ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে।          ২ এপ্রিল ২০১০ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র শীর্ষক কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

 

জুন ২০১৪ পর্যন্ত নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৮৩৭২২ (পুরুষ: ৪৮১৪০ ও মহিলা: ৩৫৫৮২)। উক্ত কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে নিয়মিত থেরাপি, হিয়ারিং টেস্ট, ভিজুয়্যাল টেস্ট, কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেবা সংখ্যা (Service Transaction) ৭৭৩৮২১ (পুরুষ: ৪৪৪৯৪৭ ও মহিলা: ৩২৮৮৭৪)।

 

কৃত্রিম অংগ, হুইল চেয়ার, ট্রাইসাইকেল, ক্র্যাচ, স্ট্যান্ডিং ফ্রেম, ওয়াকিং ফ্রেম, সাদাছড়ি, এলবো ক্র্যাচ, আয়বর্ধক উপকরণ হিসেবে সেলাই মেশিনসহ মোট ১৭৭২৪ টি সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

 

 

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে আরো ৩০টি স্থানে উক্ত কেন্দ্র চালু করার জন্য ইতোমধ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

˜    ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী কর্ণার’ স্থাপনঃ

 

প্রতিটি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে ‘নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী কর্ণার’ স্থাপন করা হয়েছে। কনসালট্যান্ট ফিজিওথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট, ক্লিনিক্যাল অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ও অটিজম-এ প্রশিক্ষণসহ অপরাপর কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ অটিজম ও অন্যান্য স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত থেকে অটিজম ও অন্যান্য প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

 

˜    প্যারেন্টস কমিটি গঠনঃ

 

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ৭৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিটিতে একটি করে প্যারেন্টস কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটি অটিস্টিকসহ প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চাহিদা নিরুপন এবং পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।

 

˜    অটিজম রিসোর্স সেন্টারঃ

 

২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদ্যাপনের শুভলগ্নে মাননীয় প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে ফাউণ্ডেশনের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু হয় অটিজম রিসোর্স সেন্টারের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২-৪-২০১০ আনুষ্ঠানিকভাবে উক্ত সেনটারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি), ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট, ক্লিনিক্যাল অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, সাইকোলোজিস্ট, ক্লিনিক্যাল স্পিচ এ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট এর মাধ্যমে অটিজমের শিকার শিশু/ব্যক্তিবর্গকে উক্ত সেন্টার থেকে বিনামূল্যে নিয়মিত থেরাপি, রেফারেল ও কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১০ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ  যাবৎ ২০০০ জন অটিজমের শিকার শিশু/ব্যক্তিকে বিনামূল্যে ম্যানুয়াল ও Instrumental থেরাপি সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে যা অব্যাহত আছে। এছাড়া এ সেন্টারের আওতায় রেজিষ্ট্রিকৃত অটিস্টিক শিশুদেরকে নিয়মিত Home Based Interventionও প্রদান করা হচ্ছে।

 

˜    ফ্রি স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজমঃ

 

২০১১ সালে একটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক অটিস্টিক স্কুল চালু করা হয়েছে। ৩০টি দরিদ্র পরিবারের ৩০ জন অটিস্টিক শিশুকে বিশেষ পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। অটিস্টিক স্কুলের আওতায় পরিচালনাধীন বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে স্কুলে বর্তমানে অধ্যয়নরত অটিস্টিক শিক্ষার্থীবৃন্দ বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি/অকুপেশনাল থেরাপি গ্রহণ করে আত্মনির্ভরশীর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

 

˜      ভ্রাম্যমাণ ওয়ান স্টপ থেরাপি সার্ভিসঃ

 

প্রত্যমত্ম অঞ্চলের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, হিয়ারিং টেস্ট, ভিজুয়্যাল টেস্ট, কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ, সহায়ক উপকরণ ইত্যাদি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ভ্রাম্যমাণ ওয়ান স্টপ থেরাপি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে আরো ২০টি ভ্রাম্যমান থেরাপি ভ্যান সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

˜    কর্মজীবী প্রতিবন্ধী পুরম্নষ ও মহিলা হোস্টেলঃ

 

অনেক কমক্ষম প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন যারা কাজ করার সুযোগ পেয়েও শুধুমাত্র থাকার জায়গার অভাবে ঢাকায় এসে চাকুরীর সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন না। এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো ঢাকা মহানগরে অভিগম্যতাসহ ২০ আসন বিশিষ্ট একটি কর্মজীবী প্রতিবন্ধী পুরুষ হোস্টেল এবং ১২ আসন বিশিষ্ট ১টি কর্মজীবী প্রতিবন্ধী মহিলা হোস্টেল চালু করেছে। এ পযন্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ২৫০ জন। এছাড়া,  উক্ত হোস্টেলে মোঃ আলী নামক একজন অটিস্টিক ব্যক্তিকে ‘হোস্টেল বয়’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

˜    প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০০৯:  

 

অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থার পথ সুগম করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা’ প্রণয়ন করে। উক্ত নীতিমালার আওতায় সুইড বাংলাদেশ এর ৪৮ টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল এবং বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউণ্ডেশন এর ৭টি ইনক্লুসিভ স্কুল এর শিক্ষক/কর্মচারীর ১০০% বেতন-ভাতা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ মাস থেকে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক পরিশোধ করা হচ্ছে।

 

˜     প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনঃ

 

২৬ এপ্রিল ২০১১ অনুষ্ঠিত আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী UNCRPD এর সাথে সঙ্গতি রেখে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’ শিরোনামে একটি নতুন আইন গত ৩ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে।

 

˜     নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইনঃ

 

‘নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩’ শিরোনামে একটি আইন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদন লাভ করেছে।

 

˜   অটিজম বিষয়ক প্রশিক্ষণঃ

 

অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে ২০০৯ সন হতে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি তাদের পিতামাতা ও অভিভাবককেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ যাবৎ অনুষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসমূহ হচ্ছে-‘ট্রেনিং ফর দ্য মাদার্স অভ মেন্টালি চ্যালেঞ্জড চিলড্রেন’, ‘অটিজম সচেতনতা বিষয়ক অভিভাবক প্রশিক্ষণ কোর্স’ Behaviour Modification and Picture Exchange Communication System (PECS), Autism and Development Disorder Management, Training on Parents’ Role in Managing Children with Autism Spectrum Disorder, ‘অটিস্টিক সন্তানদের ব্যবস্থাপনায় বাবা-মায়ের ভূমিকা’ ইত্যাদি। এসব প্রশিক্ষণ নিয়মিত বিরতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এ যাবৎ অটিস্টিক শিশুসহ প্রায় ৩০০০ বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের পিতা-মাতা/অভিভাবকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ফাউণ্ডেশনের আওতায় পরিচালিত প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা কার্যকরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

 

˜    অসহায় সেরিব্রাল পালসি শিশুর লালন পালনঃ

 

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ক্যাম্পাসে প্রাথমিক পর্যায়ে সিপি শিশুদের লালন পালন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। 

 

˜    টেলিথেরাপি সার্ভিস প্রবর্তনঃ

 

কমিউনিটি ভিত্তিক ট্রেনার সৃজন, প্রামিত্মক জনগোষ্ঠীর দ্বারপ্রামেত্ম সেবা সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এবং দেশব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কল্পে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে সাইকোলজিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট, ক্লিনিক্যাল স্পিচ এ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট সমন্বয়ে টেলি থেরাপি, টেলি কাউন্সেলিং ও টেলি প্রশিক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

 

˜     জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রঃ  

 

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশনের আওতায় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্র নামে একটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সৃষ্টি, বিশেষ শিক্ষাউপকরণ তৈরি ও বিতরণসহ  সর্বসস্তরের জনগণকে সচেতন করে তোলাই এ কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য। এ কেন্দ্রে রয়েছে বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, হোস্টেল ও রিসোর্স সেকশন। মানসিক, শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তিনটি পৃথক স্কুলসহ রয়েছে তিনটি হোস্টেল। বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ’এ বিএসএড (ব্যাচেলর অব স্পেশাল এডুকেশন) কোর্স চালু রয়েছে।

      

˜     ব্রেইল ভাষায় ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম মুদ্রণঃ

        

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পঠনের সুবিধার্থে এ ব্রশিউর'কে ব্রেইল ভাষায় রূপান্তর করার জন্য জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউণ্ডেশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক অবহিত হতে পারবেন।

 

˜    দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণঃ

 

অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে কর্মরত জনবলকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এ যাবৎ অনুষ্ঠিত উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসমূহ হচ্ছে-Training on therapeutic; children with autism in Intellectually  disabled, Low Vision, Foundation on Disability Issues in Bangladesh, Autism and Developmental disorder; Occupational, Speech and Language therapy, Neurodevelopment, Autism, Audiology and other disability,  Training program on Community Based Rehabilitation (CBR)  role out in Bangladesh, Training on low Vision Management, Training on therapeutic; children with autism in Intellectually disabled, Audiometric, Training on therapeutic; children with autism in Intellectually  disabled, Training on therapeutic; children with autism in Intellectually disabled. উক্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

Å     ঋণ ও অনুদান কার্যক্রমঃ

 

সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ ও উন্নয়নে ২০০২-২০০৩ অর্থ বছর থেকে শুরম্ন করে ২০১০-২০১১ অর্থ বছর পর্যমত্ম সময়ে মোট প্রায় ৮ কোটি টাকা অনুদান ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে হুইল চেয়ার, ট্রাইসাইকেল, ক্র্যাচ, স্ট্যান্ডিং ফ্রেম, ওয়াকিং ফ্রেম, সাদাছড়ি, এলবো ক্র্যাচ, শিক্ষা, আয়বর্ধক উপকরণ হিসেবে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়ে থাকে। উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১০০০০০ লক্ষ 

 

˜    জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্সঃ

 

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঢাকার মিরপুরে একটি প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স নির্মাণের ডিপিপিতে অটিস্টিকসহ অন্যান্য বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ডরমিটরি, অডিটরিয়াম, ওপিডি, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শেল্টারহোম, ডে-কেয়ার সেন্টার, বিশেষ স্কুল ইত্যাদির সংস্থান রাখা হয়েছে। ২ এপ্রিল ২০১৪ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উক্ত কমপ্লেক্সের শুভ উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। মূল কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 

 

˜    প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্সঃ

 

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার সাভার থানাধীন বারইগ্রাম ও দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর মৌজার ১২.০১ একর খাস জমি প্রতীকী মূল্যে ২০১২ সনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নামে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত প্রদান করেছেন। উক্ত বন্দোবস্তকৃত জমিতে প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক নক্সা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স এর নক্সায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র, ফুটবল ও ক্রিকেট ফিল্ড, বিনোদন জোন, সুইমিং পুল, মাল্টিপারপাস জিমনেসিয়াম, মসজিদ, আবাসিক কোয়ার্টার, গেস্ট হাউজ, হোস্টেল ইত্যাদি কম্পোনেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

Å     প্রতিবন্ধিতা সনাক্তকরণ জরিপঃ

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর সারাদেশব্যাপী প্রতিবন্ধিতা সনাক্তকরণ জরিপ সম্পন্ন করছে। এর মাধ্যমে অটিজমসহ সকল ধরণের প্রতিবন্ধিতার ধরণ ও মাত্রাভেদে সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা হবে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বেই জরিপকারীদেরকে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শীঘ্রই এ কাজ সম্পন্ন হবে। 

 

˜     প্রকাশনা কার্যক্রমঃ

 

অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জানুয়ারি ২০১৩ মাস থেকে ‘আমরা করবো জয়’ শিরোনামে একটি মাসিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। পত্রিকাটিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের অঁকা ছবিসহ তাদের সম্পর্কে সমাজের গুনীজনদের লেখা গল্প, ছড়া, কবিতা নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। মাসিক এ পত্রিকাটি ইতোমধ্যে পাঠক ও সুধী সমাজের প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

 

˜    গনসচেতনতাঃ

 

      গ্লোবাল অটিজম বাংলাদেশ এর সহায়তায় মুদ্রিত নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের বিভিন্ন সেবা সম্বলিত পোস্টার এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তৈরীকৃত বুকলেট দেশের ৭৩টি স্থানে বাস্তবায়িত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে লাগানো হয়েছে এবং প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক কর্মক্রম সম্পকির্ত বিলবোর্ডও স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সেবা প্রদান সম্বলিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের একাধিক প্রামান্য চিত্রও তৈরী করা হয়েছে।

 

˜     প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর গঠনঃ

 

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনপূর্বক প্রতিষ্ঠানটিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অধিদপ্তরে রুপান্তরকরণ, নবগঠিত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরে ৩৮টি পদ সৃজন, সমাজসেবা অধিদফতরাধীন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পিএইচটিসি) ও জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রের পদ, জনবল, অফিস সরঞ্জামাদি ও যানবাহন নবগঠিত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়ে অর্থ বিভাগ স্মারক নং-০৭.১৫৪.০১৫.৪১. ০২.০০১.২০১০-২৩১ তারিখঃ ০৪.০৭.২০১৩ এর মাধ্যমে সম্মতি প্রদান করে।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় স্মারক নং-০৫.২০৪. ০৮৮.০০.০০.০৬৬.২০১৩-২১২, তারিখঃ ০৫ নভেম্বর ২০১৩ মূলে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাংলা ও ইংরেজি নামের অনুমোদন জ্ঞাপন করেঃ বাংলা- প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ইংরেজী- Department for Disability Development। নবগঠিত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সৃজিত ৩৮(আটত্রিশ) টি পদের বেতন স্কেল অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ কর্তৃক স্মারক নং-০৭.০০.০০০০.১৬১.৪১. ০০১.১৩-২৫৪, তারিখঃ ০৬-১১-২০১৩ মূলে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

০২ এপ্রিল ২০১৪ তারিখ ৭ম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর এর শুভ উদ্বোধন করেন। বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

 

 

 


Share with :
Facebook Facebook